বর্ষবরণ উৎসব ১৪২২
এইদেশ, বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০১৫


আন্না পুনম: নিপীড়ন বিষয়ক মনোলগ: বর্ষবরণ উৎসব ১৪২২, টিএসসিতে ঘটে যাওয়া অনভিপ্রেত ঘটনাটি সবার মতন ভীষণ কষ্ট দিয়েছে আমাকে। মূলতঃ ঋতু বৈচিত্র্যের জন্যই আমাদের দেশটা এত প্রিয়, এত ভালবাসি এইদেশ! পৃথিবীর অন্যকোথাও প্রকৃতিকে এত আপন মনে হয়নি। এতটা মুগ্ধ করেনি প্রকৃতি পৃথিবীর অন্য কোন প্রান্তে। বৈশাখ সেতো প্রকৃতির রুদ্র ললনা! বৈশাখ এলেই প্রাণের উৎসবে মেতে উঠি। মাসব্যাপী প্রস্তুতি চলে বর্ষবরণের, পহেলা বৈশাখ উদযাপনের। অমন উদ্যোম, হাসিআনন্দগান, নতুন আশা, স্বপ্নবুনার দিন আঁধারে ঢেকে যাবে তাতো হতে দেয়া যায়না। আবহমান বাঙালির ঐতিহ্য মিশে আছে বাংলা নববর্ষ পালনে। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খৃস্টান, বাঙালি, পাহাড়ি সবার অংশগ্রহণে সাবর্জনীন এই উৎসব উৎসবপ্রিয় বাঙালির প্রাণের উৎসব। পাখিডাকা ভোরে ‘মুছে যাক গ্লানি মুছে যাক জরা’ হৃদয়ে বাজতে থাকে বৈশাখ এলেই। কাঁচাকাঠালের এঁচোড়, আলু-শুটকিভর্তা, পান্তাভাত, কাঁচাআম, মুড়ি-মুড়কী-কদমা বাতাসার অমৃততুল্য স্বাদে রসাস্বাদন করতে দিনভর দারুণ লাগে। রমনার বটমূলে প্রাণের মিলনমেলায় উপস্থিত হয়ে হাজার বাঙালির কণ্ঠে সূরের মূর্ছনা ধ্বনিত হয় ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’। চিরায়ত রবীন্দ্র সংগীতের সুরটি কর্ণকুহরে প্রবেশ নাকরলে বর্ষবরণ উৎসব যেন শুরু হতেই চায়না।
মনে পড়ে ঢাকায় প্রথম রমনার বটমূলে পহেলা বৈশাখের দিন গিয়েছিলাম মেজমামার সাথে। ১৯৮৬ সালে এসএসসি পরীক্ষা শেষে। সেদিন আলতা চুরি শাড়ি পরা হয়নি যদিও। একটা ফ্রক পড়ে গিয়েছিলাম। আমাদের সময়ে ঢাকায় মেয়েদের জন্য স্কার্ট-ফ্রক, শার্টপ্যান্ট ফ্যাশনেবল ছিল। আর বাবা বলতেন, মা যেই হলুদের রঙ আছে তাকে কৃত্রিম রঙ মাখাতে হয়না। তোমার অন্তরের সৌরভ বিকশিত কর, রজনীগন্ধার সুবাস ছড়িয়ে দিও চারদিকে। বাবার উপদেশ মত সাজগোজ খুব একটা করা হতোনা তাই। কিন্তু আলতা, চুরি, চুলের ফিতা গ্রাম বাংলার নারীদের সাজগোজের অনুষঙ্গ, আবহমান বাঙালির ঐতিহ্য, একে পুরোপুরি অস্বীকার করা কতটা ঠিক? মনের প্রশ্ন মনেই ছিল সেদিন।
সেবার মামার সাথে মেলায় ঘুরতে গিয়ে ভিরের মধ্যে হারিয়ে গিয়েছিলাম। রমনার জনস্রোতে মামাযে কোথায় হারালেন কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছিলামনা। আমারতো স্কুল আর বাসা ছাড়া কোথাও একা যাওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা চিনিওনা। সেবারই প্রথম এসেছিলাম। কি করি! কোন দিকে যাই? সঙ্গে টাকা পয়সাও নাই। হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে দেখি আমার গৃহশিক্ষক যিনি আমাকে বাড়িতে ইলেক্টিভ ম্যাথ করাতেন, ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছেন আমার দিকে। আমিও তাঁকে দেখে যার পরনাই বিস্মিত হয়েছি। কিন্তু সালাম দিতে ভুলি নাই। স্যার জিজ্ঞেস করলেন, ‘কার সাথে এসেছো?’
‘মামার সাথে স্যার। কিন্তু মামাকে খুঁজে পাচ্ছিনা, আসি স্যার।’ স্যারকে বাড়তি কথার সুযোগ নাদিয়ে আমি ভিরাভিমুখি হয়েছিলাম। স্যার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্সের ছাত্র ছিলেন। কিন্তু মা শিখিয়েছিলেন গৃহশিক্ষকের সাথে কখনো ব্যাক্তিগত আলাপ কোরোনা। ছোটবেলা থেকে গৃহশিক্ষকের কাছে পড়ে মানুষ আমি। তবু কারো সাথে সখ্যতা গড়ে উঠেনি কখনো। সেদিন একাই এগিয়ে গিয়েছিলাম মেলায় ডিউটিরত পুলিশের দিকে। বলেছিলাম, ‘আমাকে কি মেলার অফিসটা চিনিয়ে দেবেন?’ পুলিশ সাহেব সেদিন দয়াকরে মেলার অফিসে পৌঁছে দিয়েছিলেন আমাকে। আমি মেলা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলাম মামার নাম ঠিকানা। মাইকে এনাউন্সমেন্ট হয়েছিল, ফারুক ওয়াহিদ যিনি লেকসার্কাস কলাবাগান থেকে এসেছেন তাকে মেলা অফিসে আসার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। দু’বার ঘোষণা দেবার পর মামা মেলা অফিসে চলে এলেন। আমার চোখে পানি চলে এসেছিল। মামা শক্ত করে হাত ধরে বলেছিলেন, ‘তুই কই গেছিলি? এত বড় মেয়ে হয়েছিস মেলায় হারিয়ে গেলি? আমাকে ফলো করতে পারছিলিনা বুঝি! বলিসনি কেন?’ তারপর সারাপথ মামা একবারের জন্য আমার হাত ছাড়েননি। মামা এখন রমনায় বর্ষবরণ উদযাপন করতে পারেন না। তিনি আমেরিকা প্রবাসী। মুক্তিযোদ্ধা মামা আমার আমেরিকার নাগরিক হয়েছেন। যাবার আগে আমি তাঁকে প্রশ্ন করেছিলাম, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন, এখন মার্কিন নাগরিক বনে যাচ্ছেন কেন মামা? মামা দুঃখ নিয়ে বলেছিলেন, এই দেশে এখন আমার কোন কাজ নেই রে। যাই ছেলে মেয়েদের প্রতিষ্ঠিত করতে যাই। মামা হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন পতাকা এনেছেন ঠিকই কিন্তু প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতা কি প্রতিষ্ঠা পেয়েছে? ভাবী প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের সুন্দর ভাবে গড়ে উঠার জন্য এদেশ কতটা উপযোগী হয়েছে! নইলে রমনায় এত অনাচার ঘটানোর সাহস কি করে পায় একদল বখাটে তরুণ। ভুভুজেলা বাজিয়ে তরুণীদের কিশোরীদের উত্যক্ত করার, শ্লীলতাহানী ঘটানোর সাহস প্রকাশ্যে বস্ত্র হরণসহ যৌন নিপীড়নের মত ঘটনা ঘটানোর সাহস দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে বিকৃত রুচির তরুণদের। এদের শাস্তি হয়না। সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে উঠছেনা। তাই দিন দিন সংক্রামক ব্যাধির মত বেড়ে যাচ্ছে এদের আস্পর্ধা। এদেরকে রুখে দাঁড়াতে হবে। ভিরের মধ্যে মেয়েদের শরীরের স্পর্শকাতর স্থান স্পর্শকরা এদের মানসিক বিকৃতি। পাবলিকবাসে, মার্কেটে, মেলায়া, বিদ্যালয় যাবার পথে কিশোরী তরুণীদের যেন রেহাই নেই। অফিস আদালত, ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান, এমনকি বাসাবাড়িতেও কিশোরী তরুণীরা যৌনহয়রানীর শিকার হচ্ছে। বাদ যাচ্ছেনা শিশুরাও। আমাদের সমাজে মেয়েরা কতভাবে যে যৌন হয়রানীর শিকার হচ্ছে! তার সবটুকু লিপিবদ্ধ হলে এর ভয়াবহতার প্রকৃত রূপ প্রকাশ পেত। কিন্তু অধিকাংশই অপ্রকাশিত, অনুচ্চারিত থেকে যাচ্ছে। থেকে যাচ্ছে অপ্রতিরোধ্য হয়ে। কোন কোন নিপীড়ন কাহিনী প্রকাশিত হলে শুরু হয়ে যায় ডিবেট। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে পোলারাইজেসান হয়ে যায়। একদল পরোক্ষভাবে পুরুষতন্ত্রকে উস্কে দেয় নারীর পোষাকের সমালোচনা করে। কোন কোন নারীকেও আক্রান্ত নারীর পোশাক নিয়ে কথা বলতে দেখে আশ্চর্য হই। কেউ কেউ বলেন কি দরকার অমন ভিড়ের মধ্যে যাবার। মেয়েগুলোও আজকাল বেশি বেলাল্লাপনা করছে। উগ্রপোষাক পরে ছেলেদের উসকে দিচ্ছে।
উৎসব আনন্দে মাতা বেলাল্লাপনা নয়। নারীরও আছে আনন্দ উপভোগের অধিকার। স্বাধীন ভাবে চলাফেরা করার, নিজের রুচিকে প্রাধান্য দিয়ে পোশাক পরার অধিকার। আমাদের সমাজে পুরুষদের নারীকে মানুষ হিসেবে ভাবতে শেখানো হয়না। তাই অধিকাংশ পুরুষ যৌনতার দৃষ্টি নিয়ে নারীকে দেখতে অভ্যস্ত হয়। বালক বয়স থেকে শিক্ষা ব্যাবস্থায় নারীর অধিকার অন্তর্ভুক্ত করে স্কুলে ও বাড়িতে বিষয়গুলো চর্চাকরা প্রয়োজন। মানবশিশুকে ছেলেমেয়ে নির্বিশেষে নিজের শারীরবৃত্ত, দেহ কাঠামো, পিউবার্টি বা বয়ঃসন্ধিক্ষণের জটিল শারীরিক মানসিক পরিবর্তনগুলো জানানো এবং এগুলো মোকাবেলা করার কৌশল শেখনো উচিত পরিবার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর। যাতে পরবর্তীতে তারা একজন পূর্ন বয়স্ক মানুষ হিসেবে নিজের আবেগ অনুভূতি ভালবাসার শৈল্পিক প্রকাশ ঘটিয়ে যৌবনকে উপভোগ করতে পারে। এধরনের বিকৃত যৌন চর্চার মাধ্যমে নয়। নারীপুরুষের আকর্ষণ চিরন্তন। মেয়েদের দেখলেই তেঁতুলের মত লালা ঝরবে অমন তত্ত্ব যারা দেন তারা সারাজীবনে কখনো নারীকে সহপাঠী হিসেবে, সহকর্মী হিসেবে অথবা বন্ধু হিসেবে পাননি। জীবন বোধ চর্চার মাধ্যমে গড়ে তুলতে হয়। যে সংস্কৃতিতে যে বিষয়টি বেশী চর্চা করা হয় সেটিই সমাজিক মূল্যবোধে পরিণত হয়। পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য যুগে যুগে ধর্মকে ব্যাবহার করে দেশজ সংস্কৃতির উপর আঘাত হানা হয়েছে যার অন্যতম শিকার নারী সমাজ। বৃটিশ ঔপনিবেশিক আমল থেকে পাকিস্তান আমল এমনকি স্বাধীন বাংলাদেশে কত চড়াই উৎরাই পেড়িয়ে আজ অব্দি নারীর প্রাপ্য মর্যাদাটুকু অর্জিত হলনা। আগ্রাসী পুরুষতন্ত্র নারীকে বশে রাখার জন্য যুগে যুগে নানা কৌশল অবলম্বন করেছে। সম্পদের বাটোয়ারা থেকে নারীকে বঞ্চিত করেছে। এমনকি নিজের উপার্জন টুকুও যেন নারীর নিজের নয়। স্বামীর ইচ্ছায় বা সংসারের প্রয়োজনে নারীর সিংহভাগ উপার্জন ব্যায়িত হচ্ছে। এ অনাচার বইকি! প্রতিরোধ করবে কে? নারীর মর্যাদা, প্রাপ্য অধিকার, সম্ভ্রম, সম্পদ রক্ষার জন্য রাষ্ট্রকে, সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। যারা নারীর সাজগোজ বেশভূষা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, নারীর পোশাকের শালীনতা খুঁজেন, তাদের নিজেদের মন মননের শালীনতা সবার আগে বাড়ানো প্রয়োজন। নারীর সব ধরনের পোশাক পরার স্বাধীনতা থাকা উচিত। প্রকৃতিগতভাবে নারী মায়ের জাত, কোমল দেহের অধিকারী। রজবৃত্তি, মাতৃত্ব, স্তন্যদানের অভিজ্ঞতা পুরুষের নেই। এগুলোকে বাধা হিসেবে মনে নাকরে নারী আজ সর্বত্র বিচরণ করছে। নারী এভারেস্ট জয় করেছে। তাহলে নারীর যোগ্যতা প্রমানে প্রতিবন্ধকতা কোথায়! পুরুষের এত সাহস হয় কিভাবে জনসম্মুখে নারীর বস্ত্র হরণের। বস্ত্র তো সভ্যতার অংশ। আদিম মানুষ পোশাক পরতোনা। গাছের বাকল পাতা দিয়ে লজ্জা নিবারণ করতো। পশুর চামড়া ব্যবহার করতো শীত বস্ত্র হিসেবে। পোশাক নির্বাচন ঋতুচক্র ও সংস্কৃতির উপর নির্ভর করে। সভ্য রুচিশীল মানুষ সুন্দর পোশাকে নিজেকে আবৃত করে ব্যাক্তিত্বকে ফুটিয়ে তুলতে চায়। প্রকৃত বাঙালি পুরুষের পোশাক ধুতি/লুঙ্গি, ফতুয়া-পাঞ্জাবি। বাঙালি মেয়েরা ছায়া ব্লাউজ বিহীন একপ্যাঁচে শাড়ি পরতো। আমাদের নানী দাদীরা গ্রামে ছায়া ব্লাউজ পরতেননা। পুরুষ বৃটিশ আমলে শার্টপ্যান্ট পরা শুরু করেছে আর পাকিস্তান আমলে গায়ে চড়িয়েছে আস্কান, উর্দি, কুর্তা, জিন্নাহ ক্যাপ। নারীরাও নিজের সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে পরিধান করছে সালোয়ার কামিজ, শার্ট প্যান্ট, টিশার্ট জিন্স হাল আমলে হিজাব। তাহলে পোশাক নিয়ে এত কথা কেন?
আজকাল ছেলেরা এত নিচে প্যান্টালুন পরছে যেন খুলে পড়ে যাবে। কারও কারও প্যান্ট এতটাই নীচে থাকে যে পশ্চাদ দেশের সীমারেখা পর্যন্ত দেখা যায়। এ নিয়ে রাস্তাঘাটে কোন নারীকে আপত্তি করতে শুনিনি। পুরুষ মানুষের খোলা শার্টের বোতামের আড়ালে উঁকি দেওয়া রোমশ বুকে কোন নারী রাস্তাঘটে হামলে পড়েছে তাও শুনিনি। ফ্যাশন করার অধিকার পুরুষের যেমন আছে নারীরও তেমনি থাকবে, থাকা উচিত। যৌন নিপীড়নের জন্য নারীর পোশাককে খোঁড়া যুক্তি হিসেবে মেনে নেয়ার কোন মানে হয়না।
পহেলা বৈশাখে টিএসসিতে নারীর উপর বরবোরচিত হামলার বিচার নাহলে সমাজে নারী উত্তোক্তকারীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাবে। ইতোমধ্যে যৌন নিপীড়নের যে বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়েছে তা হিলিয়াম গ্যাসের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। রমনার বটমূলে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জাতি যেমন স্তম্ভিত হয়েছে- তেমনি টিএসসিতে নরীকে বিবস্ত্র করার মাধ্যমে বাঙালির উৎসব চেতনাকে আহত করা হয়েছে। আঘত করা হয়েছে বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতিকে। নারী নিপীড়নকরীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই। এদেরকে সমাজ থেকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে হবে। ধর্ষক, নিপীড়ক, নারী উত্যোক্তকারীর বিচার করতে হবে। এ যন্ত্রণা থেকে নারীকে মুক্ত করুন। হে বিকৃত মানসিকতার পুরুষ, শিশু কিশোর তরুণী যুবতী নারীদের রেহাই দিন আপনাদের লালসার হাত থেকে। নারীর সুস্থসুন্দর, হাসিখুশি জীবন গড়তে বাধা হয়ে থাকবেননা প্লিজ- কারণ পুরুষের মত নারীর জীবনও একটাই।